প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের আন্তরিক উদ্যোগে বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাই স্কুল প্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়। আনুমানিক ১৯৬০ সালে এলাকায় একটি মানসম্মত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
প্রথম পর্যায়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় সমাজসেবক মোঃ তোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা মহোদয়ের কাছ থেকে ২ একর ৪ শতাংশ জমি সংগ্রহ করা হয়। তবে বিভিন্ন বাস্তব কারণে ওই স্থানে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় নতুন উপযুক্ত স্থানের সন্ধান করা হয়।
পরবর্তীতে মামুনপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি-এর পরিচালকবৃন্দ আব্দুল আজিজ মোল্লা এবং কাজী ফজলুল হক-এর আন্তরিক সহযোগিতায় সমিতির নিজস্ব ৬০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে দান করা হয়। রাজবাড়ী–ফরিদপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই স্থানটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় ১৯৬২ সালে এখানে বিদ্যালয়ের মূল ভবন নির্মাণ করা হয়। দাতা প্রতিষ্ঠানের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় “বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাই স্কুল”।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিদ্যালয়টি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং আদর্শ নাগরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক বিদ্যালয়টি সরাসরি মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এরপর থেকে বিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বর্তমানে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুবিধার্থে অতিরিক্ত দুটি ভবন এবং একটি পৃথক বিজ্ঞানাগার ভবন নির্মিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের মনোরম ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বর্তমানে প্রায় ৮০০ জন শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে। দক্ষ, অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দের নিরলস প্রচেষ্টা, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং পরিচালনা পর্ষদের দূরদর্শী নেতৃত্বে বসন্তপুর কো-অপারেটিভ হাই স্কুল রাজবাড়ী জেলার অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।